Asian Games 2023 : অজানা খেলাতেও নিঃশব্দে থাবা ভারতের

পার্থ দত্ত

অনুশ আগরওয়ালকে চেনেন? রোশিবিনা কিংবা নেহা সিংকে? অতি বড় ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীকে ক’দিন আগেও এই প্রশ্ন করলে তাঁরা উত্তর দিতে পারতেন না। কিন্তু হাংঝৌ এশিয়ান গেমসের পরে এঁরাই দেশের খেলার নতুন আইডল।

যে দেশে ক্রিকেট মানে একটা ধর্ম, সেই দেশেও রাতারাতি ইকুয়েস্ট্রিয়ান, উশু, সেলিংয়ের মতো খেলা নিয়েও এখন চর্চা ওই অনুশ-রোশিবিনা-নেহাদের সাফল্যে। টেবল টেনিস এত দিন ঘরোয়া খেলা হয়ে থাকলেও তা আন্তর্জাতিক মানচিত্রে জায়গা করে নিল চিনের বিশ্বসেরা জুটিকে হারিয়ে বাংলার দুই মেয়ে সুতীর্থা ও ঐহিকার পদক নিশ্চিত করার সাফল্যে।

প্রশ্ন হল, হঠাৎ করেই কি অন্য খেলাগুলোর উন্নতি শুরু হয়ে গেল? আসলে তা নয়। গত এক দশক ধরেই অলিম্পিক্স অর্ন্তভুক্ত খেলাগুলোকে ভারত সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। ব্যাডমিন্টনের উত্থান সে জন্য আগেই ঘটেছে। শুটিংয়েও সাফল্য এসেছে। কুস্তিতে পরপর অলিম্পিক্সের পদক এসেছে। নীরজ চোপড়ার অলিম্পিক্স সোনা জয়ের সুবাদে জ্যাভেলিন তো বটেই অ্যাথলেটিক্সের খোঁজখবর রাখছেন অনেকেই।

এবার এশিয়ান গেমস শুরুর আগে ভারতের সম্ভাব্য পদক জয়ীদের নাম হিসেবে নীরজ, সিন্ধু, মীরাবাই, বজরংদের সঙ্গে হকি, ক্রিকেট, শুটিং তারকাদের নামগুলোই বারবার ঘুরেফিরে আসছিল। সেখানে গেমস শুরু হতেই অন্য খেলা। অপরিচিত খেলাগুলো আচমকাই প্রচারের আলোয়। শুরুটা হয়েছিল ছেলেদের ভারতীয় ভলিবল টিম দিয়ে। এশিয়ার অন্যতম সেরা দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও চিনা তাইপেকে হারিয়ে ভলিবল জাতে ওঠে।

তবে তারা পদকের কাছে অবশ্য পৌঁছোতে পারেনি। ১৯৮২ সালে ইকুয়েস্ট্রিয়ান বা ঘোড়ায় চড়ায় ভারতকে সোনা এনে দিয়েছিলেন রঘুবীর সিং। তারপর এই খেলা হারিয়ে যায়, দেশে ইকুয়েস্ট্রিয়ানের পরিকাঠামো না থাকায়। অনুশরা বিদেশে প্রস্তুতি নিয়েই এই সাফল্য এনেছেন। উশু খেলায় পাহাড়ি ছেলেমেয়েরা দ্রুত উন্নতি করছেন তাঁদের শারীরিক নমনীয়তার জন্য। মণিপুরের বিষ্ণুপুরের মেইতে জনগোষ্ঠীর মেয়ে রোশিবিনার সাফল্য অবশ্য তাঁর মানসিক দৃঢ়তার জন্য।

মণিপুর দীর্ঘদিন ধরেই রক্তাক্ত হচ্ছে জনগোষ্ঠীর আন্দোলনে। ভালো নেই কেউ। সেখানে মানসিকতা ঠিক রেখে উশুতে রুপো জয়টা সোনার থেকে কম মূল্যবান নয়।

সেলিং-রোয়িং থেকেও এবার পদক এসেছে। মধ্যপ্রদেশের কৃষক পরিবারের মেয়ে টিনএজার নেহা সিং সেলিংয়ে রুপো জিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, অন্য ধরণের খেলার প্রতি এই প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ছে।

শুটিংয়ে দ্রুত উঠে আসছেন এক ঝাঁক নতুন মুখ। এষা সিং, পলক গুলিয়া, সিফ্ট কৌরদের পদক জয়েও নতুন প্রজন্মের জয়জয়াকার। সিফ্ট তো এমবিবিএস পড়া ছেড়ে খেলাতে এসেছেন। সোনা জিতে তাঁর মন্তব্য, ‘ডাক্তারি করে যত না নাম করা যায়, তার থেকে খেলায় নাম করা যায় হাজার গুণ বেশি। তাই ডাক্তারি পড়া ছেড়ে ভুল করিনি।’ সব মিলিয়ে তাই ভারতের খেলার আকাশে এখন নতুন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *